
শি-বা ডেস্ক: ২০২৬ সালের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ে সামান্য পতন দেখা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ, আর গড় ইউনিট মূল্য কমেছে দুই দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলস এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক আমদানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৯১.৭৭ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৭৯৮.৯৯ মিলিয়ন ডলার।
তথ্য বলছে, বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য দুই দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে, যার ফলে সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে সামান্য হ্রাস দেখা গেছে।
তবে সামগ্রিক এই সংকোচনের মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বরং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পোশাকের পিস সংখ্যা ১.১৮ শতাংশ বেড়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ বেড়েছে, যদিও মোট রপ্তানি আয় সামান্য কমেছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির মূল্য কিছুটা কমলেও রপ্তানি পরিমাণ প্রায় ১.৮ শতাংশ বেড়েছে, যা এই গুরুত্বপূর্ণ বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে নির্দেশ করে।
ওটিইএক্সএ’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৯১.৭৭ মিলিয়ন ডলার, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তা ছিল ৭৯৮.৯৯ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে রপ্তানি মূল্য শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে।
এদিকে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক বাজারেও বড় ধরনের ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৭ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার—অর্থাৎ প্রায় ১৩ দশমিক ৫১ শতাংশ কমেছে।
পরিমাণের দিক থেকে পতন আরও বেশি। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট হিসেবে ১৭ দশমিক ০৯ শতাংশ কমেছে। তবে গড় ইউনিট মূল্য ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে, যা দুর্বল চাহিদার মধ্যেও দামের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক খুচরা বাজারে চাপ ও ভোক্তা চাহিদা কিছুটা কমলেও বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারকেরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছেন।
এ ব্যাপারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডি’র বিশিষ্ট ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান সাম্প্রতিক দেশকালকে বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও দামের পরিবর্তনের মধ্যে বৈশ্বিক ক্রেতারা তাদের সোর্সিং কৌশল সমন্বয় করছে। তাই আগামী কয়েক মাস বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে।”
বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানি ও আয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রবণতা
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর পোশাক রপ্তানি ও আয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। ভিয়েতনামের রপ্তানি মূল্য ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে এবং রপ্তানির পরিমাণ ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও গড় ইউনিট মূল্য শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে চীন বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পোশাক রপ্তানি মূল্যের দিক থেকে ৬২ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে, রপ্তানির পরিমাণ ৫১ দশমিক ২৩ শতাংশ কমেছে, এবং গড় ইউনিট মূল্য ২২ দশমিক ৭৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ভারতের রপ্তানি মূল্য ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ কমেছে, রপ্তানির পরিমাণ ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে এবং ইউনিট মূল্য ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে।
পাকিস্তানের রপ্তানি মূল্য ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে এবং রপ্তানি পরিমাণ ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমেছে, তবে গড় ইউনিট মূল্য সামান্য শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া ভালো প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। দেশটির রপ্তানি মূল্য ৭ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়েছে এবং রপ্তানি পরিমাণ ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও ইউনিট মূল্য ২ দশমিক ২৩ শতাংশ কমেছে।
প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে কম্বোডিয়ার। দেশটির যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়েছে, রপ্তানির পরিমাণ ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি মূল্য সামান্য কমলেও রপ্তানির পরিমাণ বাড়া থেকে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ এখনও স্থিতিশীল অর্ডার পাচ্ছে।
মন্তব্য করুন