
এম এ সাইদ (তন্ময়):বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবহেলিত অধ্যায়ের নাম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশ এবং ১৯৮৪ সালের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতোই একই পাঠ্যসূচি অনুসরণ করে শিক্ষাদান করে আসছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে—সমান দায়িত্ব পালন করেও সমান স্বীকৃতি পায়নি তারা।
আরো পড়ুন:
এসএসসি পরীক্ষা পেছাচ্ছে না,গুজব উড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা
২০১৩ সালে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হয়। এতে শিক্ষকরা পেয়েছেন আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং একটি সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ। কিন্তু ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো আজও সেই আলো থেকে বঞ্চিত। প্রশ্ন হলো—একই পাঠ্যক্রম, একই দায়িত্ব, তাহলে বৈষম্য কেন?
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, ১৯৯৪ সালে চালু হওয়া মাত্র ৫০০ টাকার ভাতা এখনো অনেক শিক্ষকের জীবনের একমাত্র সহায়। বর্তমান বাজারব্যবস্থায় এই অঙ্ক যেন এক প্রকার তামাশা। এর মধ্যে অনেক শিক্ষক বছরের পর বছর বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করে অবশেষে অবসর নিয়েছেন—যা শুধু অবহেলা নয়, এক ধরনের নীরব অবিচার।
সরকার বিভিন্ন সময় এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রতিশ্রুতির এই দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষকদের মনে হতাশা তৈরি করছে, আর তাদের পরিবারগুলো পড়ছে চরম অনিশ্চয়তায়। অনেক শিক্ষক আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন—যা একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক বাস্তবতা।
ইবতেদায়ী শিক্ষকদের এই বঞ্চনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও একটি বড় সংকেত। কারণ, একটি দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা যত দুর্বল হবে, সেই দেশের ভবিষ্যৎ ততটাই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
এখন সময় এসেছে নীতিনির্ধারকদের বাস্তবতা উপলব্ধি করার। ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে জাতীয়করণ অথবা অন্তত দ্রুত এমপিওভুক্তির আওতায় এনে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এটি কোনো দয়া নয়, এটি তাদের প্রাপ্য।
শিক্ষকরা কেবল বেতনভোগী কর্মচারী নন; তারা জাতি গড়ার কারিগর। আর সেই কারিগরদের যদি অবহেলা করা হয়, তাহলে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের স্বপ্ন কখনোই বাস্তবে রূপ নেবে না।
মন্তব্য করুন