
৫৩ হাজার আবেদন, ১১ হাজার শূন্যপদ—নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি বাড়াচ্ছে এনটিআরসিএ
স্টাফ রিপোর্টার | শিক্ষার বাজার: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বহুল প্রতীক্ষিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।
আরো পড়ুন:
প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা:জেনে নিন কিভাবে ও কবে শুরু হবে প্রবেশপত্র ডাউনলোড
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আরও একটি নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান বলেন, এনটিআরসিএ দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষক নিবন্ধন, প্রত্যয়ন এবং নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব পালন করে আসছে। এখন পর্যন্ত ১৮টি নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম এবং ৭টি নিয়োগ সুপারিশ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৫ সালের আগে সংস্থাটির কার্যক্রম শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্বও যুক্ত হয়।
তিনি আরও জানান, সম্পূর্ণ অটোমেশন পদ্ধতিতে পরিচালিত ৭টি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৪ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে মোট ১১ হাজার ১৫১টি শূন্যপদ রয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে ৭ হাজার ৯০৮টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ১১২টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে ৩ হাজার ১৩১টি পদ অন্তর্ভুক্ত।
এ লক্ষ্যে গত ২৫ মার্চ ‘৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৬ (সংশোধিত)’ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ৫৩ হাজার ৬৯ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন, যার মধ্যে পুরুষ ৪৭ হাজার ৩৫১ জন এবং নারী ৫ হাজার ৭১৮ জন।
এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলেন, পরীক্ষা গ্রহণের পরবর্তী কার্যক্রম ইতোমধ্যে সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল ও নিয়োগ সুপারিশ সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে, প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের জন্য ৯ম এনটিআরসিএ বিজ্ঞপ্তির আওতায় ২৯ মার্চ e-Requisition (শূন্যপদ সংগ্রহ) কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শূন্যপদ সংগ্রহ শেষে পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়।
👉 বিশ্লেষণ: দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে গতি আসায় শিক্ষাঙ্গনে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য করুন