গরীবের পক্ষে শিক্ষা: আর কাল বিলম্ব নয়, জাতীয়করণই হোক চূড়ান্ত সমাধান - শিক্ষার বাজার
admin
২৫ মার্চ ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গরীবের পক্ষে শিক্ষা: আর কাল বিলম্ব নয়, জাতীয়করণই হোক চূড়ান্ত সমাধান

শেয়ার করুন

এম এ সাইদ (তন্ময়) : বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে গরিব মানুষের সন্তানদের জন্য শিক্ষা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। যে শিক্ষা হওয়া উচিত ছিল সবার জন্য সমান সুযোগের একটি শক্তিশালী ভিত্তি, সেটিই আজ বৈষম্যের সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বৈষম্যের ভার সবচেয়ে বেশি বহন করছে গ্রামের গরিব, খেটে খাওয়া, পা ফাটা মানুষের সন্তানরা।

আরো পড়ুন:

৫০ ঊর্ধ্ব শিক্ষকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার নির্দেশনা শিক্ষামন্ত্রীর

একদিকে শহরের ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানেরা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নামমাত্র খরচে পড়াশোনা করছে, অন্যদিকে গ্রামের গরিব শিক্ষার্থীরা বাধ্য হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে—যেখানে ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, কোচিং খরচসহ নানা ব্যয় তাদের পরিবারের জন্য এক অসহনীয় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

📢 “শিক্ষার বাজার” পত্রিকার জন্য সাংবাদিক নিয়োগ

সারা দেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগ্য ও আগ্রহীরা আবেদন করুন।


প্রশ্ন জাগে—এটা কেমন শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে গরিবদের জন্য শিক্ষা আরও বেশি ব্যয়বহুল, আর ধনীদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য?

এই বাস্তবতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমিত আসন, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো এবং কেন্দ্রীয় শহরভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এমন একটি ব্যবস্থার মধ্যে প্রবেশ করছে, যেখানে মানসম্মত শিক্ষা পেতে হলে অর্থ ব্যয় করতেই হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, এই ব্যবস্থার ভেতরেই লুকিয়ে আছে সামাজিক বৈষম্যের বীজ। একজন গরিব কৃষকের সন্তান যদি শুধুমাত্র আর্থিক অক্ষমতার কারণে ভালো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে সে কীভাবে তার মেধা ও যোগ্যতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে?

একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকারের উন্নত হয়, যখন সে তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু আমাদের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে—গরিবরাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত।

এই বৈষম্যের আরেকটি করুণ দিক হলো শিক্ষক সমাজের অবস্থা। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা—যারা অল্প বেতনে, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে, তবুও জাতি গঠনের কাজে নিয়োজিত—তাদের জীবনমান অত্যন্ত কষ্টকর।

দেশের অন্যান্য পেশার তুলনায় তারা সবচেয়ে কম বেতন পান, অনেক সময় মাসের পর মাস বেতন বকেয়া থাকে। তাদের নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, নেই সম্মানজনক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা। অথচ তাদের হাতেই গড়ে ওঠে আগামী দিনের নেতৃত্ব।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা জাতীয়করণ এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি গরিব মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর পথ। জাতীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্র যদি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে, তাহলে গরিব ও ধনীর মধ্যে শিক্ষাগত বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে।

জাতীয়করণ বাস্তবায়িত হলে—
প্রথমত, গরিব পরিবারের সন্তানরাও সমান সুযোগ পাবে মানসম্মত শিক্ষার।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের জন্য নিশ্চিত হবে ন্যায্য বেতন ও সম্মানজনক জীবন।
তৃতীয়ত, শিক্ষা খাতে বাণিজ্যিক প্রবণতা কমে আসবে।
চতুর্থত, গ্রাম ও শহরের মধ্যে শিক্ষার ব্যবধান হ্রাস পাবে।

অবশ্যই এই পথ সহজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা। কিন্তু কঠিন বলেই যে এটি করা যাবে না—এই যুক্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বরং দেরি যত বাড়বে, বৈষম্যের দেয়াল তত উঁচু হবে।

আজকের শিশু-কিশোররাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। তাদের যদি আমরা সমান সুযোগ না দিই, তাহলে তারা কেমন সমাজ গড়ে তুলবে? একটি বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা কখনোই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে পারে না।

অতএব, এখন সময় এসেছে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার। শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শেষ কথা—
গরিবের সন্তান যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার।
👉 “আর কাল বিলম্ব নয়, শিক্ষা জাতীয়করণ এখনই বাস্তবায়ন করতে হবে।”

Facebook Comments Box

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

🔴 ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ

📊 নকল, না সৃজনশীল মূল্যায়ন?

“প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ‘হাউজ অ্যারেস্ট’ ব্যবস্থা”

“বোনাসে বঞ্চিত শিক্ষক, অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে জাতিকে!”

“তেল নেই, থেমে গেল দেশের একমাত্র রিফাইনারি—জ্বালানি খাতে বড় সংকেত!”

🚨 চূড়ান্ত পাশ, তবুও চাকরি নেই! ১৪ হাজার শিক্ষক প্রার্থীর কান্না থামছে না

বারবার অভিযান, তবুও ধরাছোঁয়ার বাইরে রাদা রানী চক্র!

“চেক নয়, যেন প্রহসন! বৈশাখ গেল, ভাতা এখনো ‘প্রসেসে’!”

শিক্ষায় নতুন দিকনির্দেশনা, জানালেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দক্ষতা ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই—ববি হাজ্জাজ

ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই সুখবর, ইরানের জব্দ ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র

১০

“টানা ৫ দিনের ছুটির আমেজ! আজ থেকে স্কুল-কলেজ বন্ধ, তবে মাদ্রাসায় চলছে ক্লাস—ভিন্ন সিদ্ধান্তে চমক”

১১

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা, সাত ইস্যুতে নজর বিশ্ব কূটনীতির

১২

🔴 ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত, দুইবারের বেশি পরীক্ষা নয়

১৩

শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

১৪

🟥 শনিবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হাইব্রিড ক্লাস কার্যক্রম

১৫

এনটিআরসিএ’র আপডেট, ১৬-১৭-১৮তম নিবন্ধন ধারীদের জন্য বিশেষ সুবিধায় নিয়োগ

১৬

“১৮ এপ্রিলেই এমসিকিউ যুদ্ধ! ৭ দিনের মধ্যে রেজাল্ট, ২৬ এপ্রিল থেকেই ভাইভা—এনটিআরসিএর বড় ঘোষণা”

১৭

“জাতীয়করণে প্রাথমিক এগিয়ে, ইবতেদায়ী কেন এখনো পিছিয়ে?—শিক্ষকদের দীর্ঘশ্বাসে ভারী শিক্ষা ব্যবস্থা”

১৮

“আজ রাতেই ‘একটি সভ্যতার শেষ’, বিশ্বকে কাঁপানো হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

১৯

এসএসসি পরীক্ষা পেছাচ্ছে না, গুজব উড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা

২০
Developed by : BDIX ROOT