“জাতীয়করণে প্রাথমিক এগিয়ে, ইবতেদায়ী কেন এখনো পিছিয়ে?—শিক্ষকদের দীর্ঘশ্বাসে ভারী শিক্ষা ব্যবস্থা” - শিক্ষার বাজার
admin
৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫:৪৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

“জাতীয়করণে প্রাথমিক এগিয়ে, ইবতেদায়ী কেন এখনো পিছিয়ে?—শিক্ষকদের দীর্ঘশ্বাসে ভারী শিক্ষা ব্যবস্থা”

শেয়ার করুন

এম এ সাইদ (তন্ময়):বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবহেলিত অধ্যায়ের নাম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশ এবং ১৯৮৪ সালের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতোই একই পাঠ্যসূচি অনুসরণ করে শিক্ষাদান করে আসছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে—সমান দায়িত্ব পালন করেও সমান স্বীকৃতি পায়নি তারা।

আরো পড়ুন:

এসএসসি পরীক্ষা পেছাচ্ছে না,গুজব উড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা

২০১৩ সালে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হয়। এতে শিক্ষকরা পেয়েছেন আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং একটি সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ। কিন্তু ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো আজও সেই আলো থেকে বঞ্চিত। প্রশ্ন হলো—একই পাঠ্যক্রম, একই দায়িত্ব, তাহলে বৈষম্য কেন?

📢 “শিক্ষার বাজার” পত্রিকার জন্য সাংবাদিক নিয়োগ

সারা দেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যোগ্য ও আগ্রহীরা আবেদন করুন।


সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, ১৯৯৪ সালে চালু হওয়া মাত্র ৫০০ টাকার ভাতা এখনো অনেক শিক্ষকের জীবনের একমাত্র সহায়। বর্তমান বাজারব্যবস্থায় এই অঙ্ক যেন এক প্রকার তামাশা। এর মধ্যে অনেক শিক্ষক বছরের পর বছর বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করে অবশেষে অবসর নিয়েছেন—যা শুধু অবহেলা নয়, এক ধরনের নীরব অবিচার।

সরকার বিভিন্ন সময় এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। প্রতিশ্রুতির এই দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষকদের মনে হতাশা তৈরি করছে, আর তাদের পরিবারগুলো পড়ছে চরম অনিশ্চয়তায়। অনেক শিক্ষক আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন—যা একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক বাস্তবতা।

ইবতেদায়ী শিক্ষকদের এই বঞ্চনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও একটি বড় সংকেত। কারণ, একটি দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা যত দুর্বল হবে, সেই দেশের ভবিষ্যৎ ততটাই ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

এখন সময় এসেছে নীতিনির্ধারকদের বাস্তবতা উপলব্ধি করার। ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে জাতীয়করণ অথবা অন্তত দ্রুত এমপিওভুক্তির আওতায় এনে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এটি কোনো দয়া নয়, এটি তাদের প্রাপ্য।

শিক্ষকরা কেবল বেতনভোগী কর্মচারী নন; তারা জাতি গড়ার কারিগর। আর সেই কারিগরদের যদি অবহেলা করা হয়, তাহলে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের স্বপ্ন কখনোই বাস্তবে রূপ নেবে না।

Facebook Comments Box

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

📊 নকল, না সৃজনশীল মূল্যায়ন?

“প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ‘হাউজ অ্যারেস্ট’ ব্যবস্থা”

“বোনাসে বঞ্চিত শিক্ষক, অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে জাতিকে!”

“তেল নেই, থেমে গেল দেশের একমাত্র রিফাইনারি—জ্বালানি খাতে বড় সংকেত!”

🚨 চূড়ান্ত পাশ, তবুও চাকরি নেই! ১৪ হাজার শিক্ষক প্রার্থীর কান্না থামছে না

বারবার অভিযান, তবুও ধরাছোঁয়ার বাইরে রাদা রানী চক্র!

“চেক নয়, যেন প্রহসন! বৈশাখ গেল, ভাতা এখনো ‘প্রসেসে’!”

শিক্ষায় নতুন দিকনির্দেশনা, জানালেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দক্ষতা ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই—ববি হাজ্জাজ

ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই সুখবর, ইরানের জব্দ ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র

“টানা ৫ দিনের ছুটির আমেজ! আজ থেকে স্কুল-কলেজ বন্ধ, তবে মাদ্রাসায় চলছে ক্লাস—ভিন্ন সিদ্ধান্তে চমক”

১০

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা, সাত ইস্যুতে নজর বিশ্ব কূটনীতির

১১

🔴 ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত, দুইবারের বেশি পরীক্ষা নয়

১২

শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

১৩

🟥 শনিবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হাইব্রিড ক্লাস কার্যক্রম

১৪

এনটিআরসিএ’র আপডেট, ১৬-১৭-১৮তম নিবন্ধন ধারীদের জন্য বিশেষ সুবিধায় নিয়োগ

১৫

“১৮ এপ্রিলেই এমসিকিউ যুদ্ধ! ৭ দিনের মধ্যে রেজাল্ট, ২৬ এপ্রিল থেকেই ভাইভা—এনটিআরসিএর বড় ঘোষণা”

১৬

“জাতীয়করণে প্রাথমিক এগিয়ে, ইবতেদায়ী কেন এখনো পিছিয়ে?—শিক্ষকদের দীর্ঘশ্বাসে ভারী শিক্ষা ব্যবস্থা”

১৭

“আজ রাতেই ‘একটি সভ্যতার শেষ’, বিশ্বকে কাঁপানো হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

১৮

এসএসসি পরীক্ষা পেছাচ্ছে না, গুজব উড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা

১৯

৩০ জুনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ শেষ!—বড় ঘোষণা এনটিআরসিএ চেয়ারম্যানের

২০
Developed by : BDIX ROOT