
এম এ সাইদ (তন্ময়): একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিক্ষার ওপর—এটি কোনো নতুন কথা নয়, বরং সভ্যতার ইতিহাসে প্রমাণিত সত্য। অথচ যখন একটি দেশের নীতিনির্ধারক মহল থেকেই প্রশ্ন তোলা হয়—“ডিগ্রি অর্জন করে লাভ কী?”—তখন তা শুধু একটি বাক্য নয়, এটি একটি জাতির মেধা, পরিশ্রম এবং স্বপ্নের ওপর নির্মম আঘাত।
আরো পড়ুন:
“যে হাতে গড়ে ভবিষ্যৎ, সেই হাতেই কেন আর্থিক সংকট?”
ডিগ্রি মানে শুধু একটি কাগজ নয়; এটি বছরের পর বছর সাধনা, ত্যাগ, এবং সংগ্রামের প্রতীক। একজন শিক্ষার্থী তার যৌবনের সেরা সময় ব্যয় করে শিক্ষার পেছনে, একটি সম্মানজনক ভবিষ্যতের আশায়। কিন্তু যদি রাষ্ট্রই সেই পরিশ্রমকে তুচ্ছ করে, তাহলে তরুণ সমাজের সামনে কী বার্তা পৌঁছায়? তারা কি আর স্বপ্ন দেখবে, নাকি হতাশার অন্ধকারে হারিয়ে যাবে?
আজকের বাস্তবতা হলো—শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, চাকরির বাজারে বৈষম্য চরমে, আর সেই সাথে শিক্ষার মান ও মূল্যবোধ ক্রমাগত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এর মধ্যে যদি সরকার বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এমন মন্তব্য করেন, তাহলে তা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এটি যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো।
একটি উন্নত রাষ্ট্র কখনো তার শিক্ষাকে ছোট করে না। বরং তারা শিক্ষাকে করে তোলে শক্তির উৎস, উদ্ভাবনের ভিত্তি, এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি। অথচ আমাদের দেশে কখনো কখনো এমন বক্তব্য শোনা যায়, যা শিক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙে দেয়, তাদের আত্মবিশ্বাসে আঘাত করে।
প্রশ্ন হলো—তাহলে তরুণরা কোথায় যাবে? তারা কি বিদেশমুখী হবে? নাকি হতাশায় ডুবে গিয়ে সমাজের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে? একটি ভুল বার্তা পুরো প্রজন্মকে বিপথে নিতে পারে—এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।
শিক্ষার প্রতি অবহেলা মানেই জাতির মেধাশক্তিকে ধ্বংস করা। আজ যদি আমরা ডিগ্রিকে অবমূল্যায়ন করি, কাল আমরা হারাবো দক্ষ জনশক্তি, হারাবো উদ্ভাবনী শক্তি, হারাবো আমাদের সম্ভাবনা।
সময়ের দাবি একটাই—শিক্ষাকে সম্মান দিতে হবে, শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে মূল্য দিতে হবে, এবং এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে যা জাতির মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দেয়। কারণ একটি শিক্ষিত, সচেতন এবং আত্মবিশ্বাসী প্রজন্মই পারে একটি দেশকে এগিয়ে নিতে।
👉 শেষ কথা:
যে দেশে ডিগ্রির মূল্য নেই, সে দেশে স্বপ্ন দেখা সত্যিই কঠিন। কিন্তু সেই কঠিন বাস্তবতাকে বদলানোর দায়িত্ব আমাদের সবার—রাষ্ট্র, সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের।
মন্তব্য করুন