যে কারণে দাখিল পাশের পর ৭০% শিক্ষার্থী আলিমে ভর্তি হয় না - শিক্ষার বাজার
admin
২৮ মার্চ ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যে কারণে দাখিল পাশের পর ৭০% শিক্ষার্থী আলিমে ভর্তি হয় না

শেয়ার করুন

শিক্ষা ডেস্ক: নোয়াখালীর চন্দ্রগঞ্জ কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করে উচ্চমাধ্যমিকে (আলিম) ভর্তি হওয়ার কথা মো. আবদুর রহমানের। তবে ভর্তির আগেই উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের আশায় মাদ্রাসার পড়াশোনা বাদ দিয়ে কলেজে ভর্তি হন তিনি।

আরো পড়ুন:

শিক্ষার অপমান নাকি বাস্তবতার স্বীকারোক্তি? ডিগ্রি নিয়ে নতুন বিতর্ক

তার দাবি, দেশের চাকরির বাজারে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা এখনো বৈষম্যের শিকার। সেই কারণেই দাখিলের পর জেনারেল শিক্ষায় গুরুত্ব বাড়াতে কলেজে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

শুধু আবদুর রহমানই নন, দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বৈষম্য, প্রশিক্ষিত শিক্ষকের স্বল্পতা এবং চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তার মতো নানা কারণে দাখিল শেষ করেই মাদ্রাসা শিক্ষার ইতি টানছেন অনেক শিক্ষার্থী।

পরে তারা দেশের বিভিন্ন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকছেন।

পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন বছরে দাখিল শেষ করার পর প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই আলিম স্তরের শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে অথবা অন্য শিক্ষা বোর্ডে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে ২০২৫ সালের দাখিল ও আলিম দুই স্তরেরই পাশের হারের নজিরবিহীন বিপর্যয়।

প্রধানত আরবি বিষয়ে দূর্বলতার জন্যই শিক্ষার্থীরা দাখিলের পর আর মাদ্রাসায় ভর্তি হতে চায় না। যে বিষয় পড়ে আনন্দ পায় না বুঝে না, সেই বিষয় চালিয়ে যাওয়া আসলেই সহজ নয়। এছাড়া চাকরির বাজারে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবহেলার শিকার হতে হয়।

উভয় শিক্ষাব্যবস্থার ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক মর্যাদাও এক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী। এজন্য আমাদের শিক্ষার্থীরা হীনমন্যতায় ভোগেন। এছাড়া মাদ্রাসায় পোষাক-পরিচ্ছদেরও একটা বাধ্যবাধকতা থাকে, সেটিতে অনেকেই অভ্যস্ত থাকতে চায় না।— অধ্যক্ষ আ ন ম নিজাম উদ্দিন, রায়পুর আলিয়া মাদ্রাসা, লক্ষ্মীপুর।

বিগত তিন বছরের (২০২৩-২০২৫) মাদ্রাসা বোর্ডের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দাখিল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় পৌনে তিন লাখের ঘরে থাকলেও আলিম পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতি বছরই কমছে।

এক পরিসংখ্যান দেখা গেছে, ২০২৩ সালে দাখিল পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৩৩.২১ শতাংশ শিক্ষার্থী আলিম স্তরের পরীক্ষয় অংশগ্রহন করেছেন। ২০২৪ সালে এই হার কমে দাঁড়ায় ৩০.৪১ শতাংশে। সর্বশেষ ২০২৫ সালে এই হার আরও কমে ২৯.৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জন দাখিল শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৯ জন আলিম পর্যন্ত লেখাপড়া করছেন। বাকি ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশই সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি চলে যাচ্ছে অথবা কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের তাগিদে পড়াশোনার ইতি টানছে তারা।

গত বছর ২০২৫ সালের ফলাফল মাদ্রাসা বোর্ডের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের তুলনায় দাখিলে পাশের হার কমেছে প্রায় ১১.৫৭শতাংশ এবং আলিমে পাশের হার কমেছে প্রায় ১৭.৭৯শতাংশ। বিশেষ করে আলিমের পাশের হার ৯৩ শতাংশ থেকে এক লাফে ৭৫ শতাংশে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিযোগিতার বাজারে আধুনিক কারিকুলামে পিছিয়ে থাকা এবং ধর্মীয় শিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থী কমে যাওয়া-ই মাদ্রাসার উচ্চশিক্ষা স্তরে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণ।

এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভিন্নভাবে দেখার সংস্কৃতি। ফলে শৈশব থেকে আলেম হওয়ার ইচ্ছে নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীরাই শেষ পর্যন্ত এই শিক্ষাক্রমের মধ্যে থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করছে। অনেকেই পড়াশোনার মাঝপথে এসে আধুনিক শিক্ষাক্রমে নিজের গতি পরিবর্তন করে নেয়।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আ ন ম নিজাম উদ্দিন বলেন, প্রধানত আরবি বিষয়ে দূর্বলতার জন্যই শিক্ষার্থীরা দাখিলের পর আর মাদ্রাসায় ভর্তি হতে চায় না।

যে বিষয় পড়ে আনন্দ পায় না বুঝে না, সেই বিষয় চালিয়ে যাওয়া আসলেই সহজ নয়। এছাড়া চাকরির বাজারে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবহেলার শিকার হতে হয়। উভয় শিক্ষাব্যবস্থার ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক মর্যাদাও এক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী। এজন্য আমাদের শিক্ষার্থীরা হীনমন্যতায় ভোগেন। এছাড়া মাদ্রাসায় পোষাক-পরিচ্ছদেরও একটা বাধ্যবাধকতা থাকে, সেটিতে অনেকেই অভ্যস্ত থাকতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা আলেমের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ইসলামি স্টাডিজ নেন। আসলে এতে আরবিতে দক্ষ হয়ে উঠা সম্ভব নয়।

মাদ্রাসায় যেভাবে হাতে-কলমে হাদিস ও তাফসিরের বড় বড় কিতাবসমূহ (গ্রন্থসমূহ) পড়ানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা সম্ভব হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সাথে বেসিক আরবি না জানা জেনারেল লাইনের শিক্ষার্থীরাও ইসলামি স্টাডিজে ভর্তি হয়ে থাকে।খবর টিডিসি

Facebook Comments Box

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

🔴 ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ

📊 নকল, না সৃজনশীল মূল্যায়ন?

“প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ‘হাউজ অ্যারেস্ট’ ব্যবস্থা”

“বোনাসে বঞ্চিত শিক্ষক, অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে জাতিকে!”

“তেল নেই, থেমে গেল দেশের একমাত্র রিফাইনারি—জ্বালানি খাতে বড় সংকেত!”

🚨 চূড়ান্ত পাশ, তবুও চাকরি নেই! ১৪ হাজার শিক্ষক প্রার্থীর কান্না থামছে না

বারবার অভিযান, তবুও ধরাছোঁয়ার বাইরে রাদা রানী চক্র!

“চেক নয়, যেন প্রহসন! বৈশাখ গেল, ভাতা এখনো ‘প্রসেসে’!”

শিক্ষায় নতুন দিকনির্দেশনা, জানালেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দক্ষতা ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই—ববি হাজ্জাজ

ইসলামাবাদে আলোচনার মধ্যেই সুখবর, ইরানের জব্দ ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র

১০

“টানা ৫ দিনের ছুটির আমেজ! আজ থেকে স্কুল-কলেজ বন্ধ, তবে মাদ্রাসায় চলছে ক্লাস—ভিন্ন সিদ্ধান্তে চমক”

১১

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা, সাত ইস্যুতে নজর বিশ্ব কূটনীতির

১২

🔴 ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত, দুইবারের বেশি পরীক্ষা নয়

১৩

শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

১৪

🟥 শনিবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হাইব্রিড ক্লাস কার্যক্রম

১৫

এনটিআরসিএ’র আপডেট, ১৬-১৭-১৮তম নিবন্ধন ধারীদের জন্য বিশেষ সুবিধায় নিয়োগ

১৬

“১৮ এপ্রিলেই এমসিকিউ যুদ্ধ! ৭ দিনের মধ্যে রেজাল্ট, ২৬ এপ্রিল থেকেই ভাইভা—এনটিআরসিএর বড় ঘোষণা”

১৭

“জাতীয়করণে প্রাথমিক এগিয়ে, ইবতেদায়ী কেন এখনো পিছিয়ে?—শিক্ষকদের দীর্ঘশ্বাসে ভারী শিক্ষা ব্যবস্থা”

১৮

“আজ রাতেই ‘একটি সভ্যতার শেষ’, বিশ্বকে কাঁপানো হুমকি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

১৯

এসএসসি পরীক্ষা পেছাচ্ছে না, গুজব উড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তা

২০
Developed by : BDIX ROOT