
এম এ সাইদ (তন্ময়): একটি রাষ্ট্রের অগ্রগতির মূল ভিত্তি হলো শিক্ষা। সেই শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর—ডিগ্রি অর্জন—যখন রাষ্ট্রের কাছ থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন তা শুধু একটি বক্তব্য নয়, বরং পুরো জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর সংকেত।
আরো পড়ুন:
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুখবর দিলেন সরকার
“বড় ডিগ্রি অর্জন করে লাভ কী?”—এ ধরনের প্রশ্ন যখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের মুখে শোনা যায়, তখন তা দেশের লাখো শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষক সমাজের হৃদয়ে হতাশার ছায়া ফেলে।
ডিগ্রি কখনোই শুধু একটি কাগজ নয়; এটি একটি মানুষের বছরের পর বছর শ্রম, মেধা ও ত্যাগের প্রতীক। একজন শিক্ষার্থী তার যৌবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করে একটি ডিগ্রি অর্জনের জন্য, এই বিশ্বাসে যে এটি তার ভবিষ্যৎ গড়বে, পরিবারকে সমৃদ্ধ করবে এবং দেশকে এগিয়ে নেবে। কিন্তু যখন রাষ্ট্রই সেই ডিগ্রির মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন সেই স্বপ্নগুলো ভেঙে পড়ে নির্দয় বাস্তবতার কাছে।
প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র কি তাহলে দক্ষতাকে প্রাধান্য দিতে চায়? যদি তাই হয়, তবে সেটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হতে পারে। কিন্তু দক্ষতা ও ডিগ্রিকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড় করানো কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। বরং একটি উন্নত রাষ্ট্রে এই দুটি বিষয় পরস্পরের পরিপূরক হওয়া উচিত। ডিগ্রি একজন মানুষকে তাত্ত্বিক জ্ঞান দেয়, আর দক্ষতা তাকে সেই জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করতে শেখায়।
বাংলাদেশের বাস্তবতায়, ডিগ্রি এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক মানদণ্ড। চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে হলে ডিগ্রি অপরিহার্য। অথচ বাস্তবতা হলো—উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ বেকার। এর দায় কি শিক্ষার্থীদের? নাকি রাষ্ট্রের পরিকল্পনার ব্যর্থতা?
রাষ্ট্র যদি সত্যিই পরিবর্তন চায়, তবে তাকে শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নে মনোযোগ দিতে হবে। প্রয়োজন বাস্তবমুখী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। শুধু ডিগ্রির মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। বরং এটি সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই ধরনের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। তারা দিকনির্দেশনা হারায়, হতাশ হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় ভুল পথে পরিচালিত হয়। একটি জাতির তরুণ প্রজন্ম যদি আশাহীন হয়ে পড়ে, তাহলে সেই জাতির উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।
অতএব, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো শিক্ষাকে উৎসাহিত করা, শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা এবং তাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। ডিগ্রির অবমূল্যায়ন নয়, বরং তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
শেষ কথা হলো—একটি জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে তার শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ওপর। যদি সেই শিক্ষার ভিত্তিকেই দুর্বল করা হয়, তাহলে উন্নয়নের স্বপ্ন কেবলই স্বপ্ন হয়ে থাকবে। তাই এখনই সময়—শিক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে, তাকে শক্তিশালী করার।
মন্তব্য করুন