
শি-বা ডেস্ক: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন নিজ দপ্তরে যোগ দিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দুর্নীতি হবে না, দ্যাটস ফাইনাল।”
আরও পড়ুন:
দেশে একক শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনাঃ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর তিনি নিজ দপ্তরে যোগদান করেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
গতকাল ‘জাম্প’ দিতে দেখা গেছে- শিক্ষা সংস্কারে বৈপ্লবিক পরিবর্তনে এমন কোনো জাম্প দেখাবেন কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “২০০১ সালে দায়িত্ব পাওয়ার পরে নকল প্রতিরোধ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়েছিল।
সেগুলো তো চলে গিয়েছে। সেগুলোর আর পুনরাবৃত্তি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।”
মিলন বলেন, “আর জাম্প বলতে যেটা বলছেন, হ্যাঁ- আমাদের এডুকেশন সেক্টরে শুধু হাই জাম্প না, পোল ভল্ট জাম্প দিতে হবে। এটা আমি বিশ্বাস করি।”
২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো দুর্নীতি হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা আবার এসেছি, হবে না। এটা আপনি ধরে নিতে পারেন। অ্যান্ড দ্যাটস ফাইনাল।”
দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির অভিযোগ প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, “২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি দায়িত্বে ছিলাম, তখন কোনো দুর্নীতি হয়নি। আমরা আবার এসেছি।
অতএব তারা কী করেছে, তার জবাবদিহিতা আমার দেওয়ার নয়। কিন্তু আমরা (দুর্নীতি) করিনি, তার প্রমাণ রয়েছে। আমরা এসেছি, (দুর্নীতি) হবে না। এটা আপনি ধরে নিতে পারেন। অ্যান্ড দ্যাটস ফাইনাল।”
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমরা পুরনো জায়গায় ফিরে যেতে চাই না। আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হতে চাই। আমরা পেছনে যেতে চাই না। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব, সামনের দিনের কথা বলব।”
দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তাকে পছন্দ করে ও অনুসরণ করে- এ বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, “তাদের উদ্দেশ্যে আমাদের বার্তা হলো, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী করতে হবে।
অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। গ্লোবাল ভিলেজে ব্যাকডেটেড কোনো শিক্ষা থাকবে না।”
কারিকুলাম পরিবর্তন করা হবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “নতুন কারিকুলাম পরিবর্তন নয়, রিভিউ হবে।”
শিক্ষার মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে আছি। সেখানে ন্যানো টেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবোটিকস- এসবের ব্যবহার আমাদের করতে হবে।
অতএব আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। ডিজিটাল লিটারেসি লাগবে, ইংলিশ লিটারেসি লাগবে।”
কবে নাগাদ এসব বাস্তবায়ন হবে- এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “আমি আসলাম, বসলাম- সব একসঙ্গে হবে না। আজ আমার প্রথম অফিস।”
এই মুহূর্তে শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কর্মসংস্থান এবং দক্ষ মানবশক্তি।”
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অন্য দশটা মন্ত্রণালয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। এই মন্ত্রণালয়টি জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “এর আগে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল তার সঙ্গে।”
শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, “আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করব।
আমি জানি তিনি শিক্ষাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন- যেভাবে ভালোবেসেছিলেন আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
আমরা প্রত্যেকটি বিষয় নিয়ে অ্যাড্রেস করব। আজ মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রণালয়ে এসে পেপারওয়ার্ক করব। আগামীকাল বিস্তারিত বলব।
মন্তব্য করুন