
এম এ সাইদ (তন্ময়) : রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে প্রায় প্রতিটি সরকারেরই একটি “স্বস্তির সময়” থাকে—ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দিকের সেই সময়, যখন জনমানসে প্রত্যাশা থাকে উচ্চে, আর সমর্থনের ঢেউ থাকে অনুকূলে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষায় সেই অনুকূল আবহ টিকে থাকা কতটা সম্ভব—সেটিই হয়ে ওঠে মূল প্রশ্ন।
আরও পড়ুন:
“বদলি কি শুধু এনটিআরসিএদের জন্য?—মন্ত্রীর বক্তব্যে তোলপাড়, আসল সত্য জানুন!”
সাম্প্রতিক নানা ইঙ্গিত বলছে, বর্তমান শাসন ব্যবস্থার সেই প্রারম্ভিক সুসময় এখন ধীরে ধীরে অবসানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাচ্ছে।
প্রথমত, জনগণের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ফারাক যত বাড়ে, ততই আস্থার ভিত্তি দুর্বল হতে থাকে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিলম্ব, প্রশাসনিক জটিলতা, কিংবা নীতিনির্ধারণে দ্বিধা—এসবই ধীরে ধীরে জনমনে প্রশ্নের জন্ম দেয়। শুরুতে যে আস্থা ছিল অটুট, তা সময়ের ব্যবধানে হয়ে ওঠে শর্তসাপেক্ষ।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমতের প্রতিফলন এখন অনেক দ্রুত এবং তীব্র। আগে যেখানে অসন্তোষ প্রকাশ পেতে সময় লাগত, এখন তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। ফলে শাসকদের জন্য চ্যালেঞ্জও বহুগুণ বেড়েছে। ছোট একটি সিদ্ধান্ত কিংবা বক্তব্যও বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, যা সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলে।
তৃতীয়ত, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও কার্যকারিতা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। প্রাথমিক উদ্যম ধীরে ধীরে কমে গেলে, নীতির বাস্তবায়নেও দেখা দেয় শ্লথতা। এই শ্লথতাই একসময় জনগণের চোখে অদক্ষতা হিসেবে প্রতিভাত হয়।
তবে এই অবস্থাকে কেবল সংকট হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়—যেখানে সরকার চাইলে নিজেদের কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে পারে।
জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হতে পারে আস্থা পুনর্গঠনের মূল চাবিকাঠি।
অতএব, প্রারম্ভিক সুসময় ফুরিয়ে আসার এই ইঙ্গিতকে উপেক্ষা না করে, সেটিকে সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ ইতিহাস বলছে—যে সরকার সময়মতো নিজেকে সংশোধন করতে পারে, তার পথচলাই হয় দীর্ঘস্থায়ী ও সফল। আর যে সরকার বাস্তবতার সংকেত বুঝতে ব্যর্থ হয়, তার জন্য অপেক্ষা করে আরও কঠিন সময়।
এম এ সাইদ (তন্ময়)
লেখক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট
মন্তব্য করুন