
কৃচ্ছ্রসাধনের দোহাই, ৫০% থেকে ৬০% করার প্রস্তাব আটকে দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
✍️ স্টাফ রিপোর্টার:দেশের প্রায় ৬ লাখ এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীর বহুল প্রত্যাশিত উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা অনুমোদন দেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়।
আরো পড়ুন:
“বঞ্চিত শিক্ষক, অবহেলিত নন-এমপিও: এই ভিত্তিতে কি দাঁড়াবে মানসম্মত শিক্ষা?”
রবিবার (৫ এপ্রিল) অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অতিরিক্ত ব্যয় থেকে সরে এসে সরকার কৃচ্ছ্রসাধন নীতি অনুসরণ করছে। ফলে আপাতত এই ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, “সরকারের সামগ্রিক নীতির আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবটি অনুমোদন দেননি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ এলে বিষয়টি আবার বিবেচনা করা হতে পারে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয় কেন প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়নি, তা আমার জানা নেই। এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিষয়।”
এর আগে গত ৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি ডিও লেটার পাঠানো হয়। সেখানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়।
ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তাদের সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম। এতে তাদের জীবনযাত্রার মান ও সামাজিক অবস্থানে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবটি অত্যন্ত যৌক্তিক বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ভাতা ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে বছরে অতিরিক্ত ১৯০ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন হতো। অর্থাৎ মোট অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াত ২৮৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, এই অতিরিক্ত ব্যয় শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখত। তবে আপাতত সে সম্ভাবনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন