“বোনাস বঞ্চনায় ঈদের আনন্দ হারানো শিক্ষক সমাজ—কোরবানির সামর্থ্য না থাকায় বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা”
এম এ সাইদ (তন্ময়): ঈদুল আযহা সামনে। ত্যাগ, সহমর্মিতা আর আনন্দের এই উৎসবকে ঘিরে যখন পুরো দেশ প্রস্তুত, তখন বেসরকারি শিক্ষক সমাজের বড় একটি অংশ পড়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে। তাদের প্রধান দাবি একটাই—ঈদুল আযহার পূর্বেই ১০০% বোনাস দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, সেই ন্যায্য দাবিও আজ উপেক্ষিত।
আরও পড়ুন:
“চেক নয়, যেন প্রহসন! বৈশাখ গেল, ভাতা এখনো ‘প্রসেসে’!”
কোরবানির ঈদ এলেই শিক্ষকদের অসহায়ত্ব যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেক শিক্ষকই কোরবানির পশু কেনার সামর্থ্য হারান, পরিবারের সামনে পড়েন বিব্রতকর অবস্থায়। সন্তানদের চোখে প্রশ্ন, সমাজের সামনে লজ্জা—সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দ তাদের জন্য হয়ে ওঠে এক নিঃশব্দ বেদনা। যে মানুষগুলো সারা বছর ত্যাগের শিক্ষা দেন, তারাই যখন ত্যাগের এই উৎসবে নিজেরাই বঞ্চিত থাকেন, তখন সেটি শুধু ব্যক্তিগত কষ্ট নয়—এটি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
বছরের পর বছর ধরে বোনাস প্রদানে বৈষম্য, অনিয়ম ও বিলম্ব যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সরকারি শিক্ষকরা যেখানে পূর্ণ সুবিধা পান, সেখানে বেসরকারি শিক্ষকরা বারবার বঞ্চিত হন। এই বৈষম্য কেবল আর্থিক নয়, এটি সম্মানের প্রশ্ন। জাতি গঠনের কারিগরদের যদি বারবার অবমূল্যায়ন করা হয়, তাহলে সেই জাতির ভবিষ্যৎ যে ঝুঁকির মুখে পড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
শিক্ষকদের দাবি কোনো বিলাসিতা নয়—এটি তাদের অধিকার। ঈদুল আযহার পূর্বেই ১০০% বোনাস নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এটি না হলে ক্ষোভ বাড়বে, হতাশা গভীর হবে, আর সেই প্রভাব পড়বে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। একটি জাতির মেরুদণ্ড যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে উন্নয়নের সব কথাই হয়ে যাবে অর্থহীন।
এখনই সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার।
শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, তাদের সম্মান ফিরিয়ে দিতে হবে। নইলে এই অবহেলা একদিন ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে—যার দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না কারও।