শি-বা: সমালোচনার মুখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর গত ৫ মার্চ জারি করা ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ সংক্রান্ত পত্র স্থগিত করেছে।
পত্রটি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক প্রস্তুত করা হয়েছিল। শনিবার (১৪ মার্চ) সংবাদমাধ্যমে আসা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি সংস্থা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর হতে ৫ মার্চ জারীকৃত পত্রটি স্থগিত করা হলো।
এর আগে বেসরকারি এই সংস্থাটিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়ে।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বিষয়ক পোস্টটি নিশ্চই আপনার চোখে পড়েছে (কমেন্টে দেখুন), পোস্টটিতে তাদের বান্দরবানের লামা সেন্টার এর অভ্যন্তরের বিভিন্ন ছবি যুক্ত করা হয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ও তাদের কার্যক্রম নিয়ে খোঁজ খবর করতে গিয়ে যেসব তথ্য প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে তা বেশ চমকপ্রদ, তবে সেসব পরবর্তীতে তুলে ধরা হবে।
বান্দরবানের লামা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ২৫০০ একর বিস্তৃত এলাকায় বছরের পর বছর বেশ নির্বিঘ্নে এরা কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে, এদের কারা রেগুলেট করে, ১২০০ কর্মীর মাধ্যমে এখানে কিসের প্রশিক্ষণ চলে সেসব নিয়ে তেমন কোন তথ্যও পাওয়া যায়না, এখানে সাধারণ নাগরিক তো বটেই নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদেরও প্রবেশে অনুমতি নিতে হয়।
এই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শহীদ আল বোখারী যাকে গুরুজী এবং মহাজাতক বলে সম্বোধন করা হয়, তার সাথে কুচক্রী ছোটন গ্যাং এর সম্পর্ক আমাকে এদের কার্যক্রমের বিষয়ে আরো আগ্রহী করে তোলে।
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো — বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়, যার মাধ্যমে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন এর নামে ১ দিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সংস্থাটির নিজ ভেন্যুতে বিনামূল্যে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এর মাধ্যমে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রস্তুত করা ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ সংক্রান্ত ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে দেশের প্রায় ২০ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
এটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে ১২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি।
তবে কিসের ভিত্তিতে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে এই কাজটি দেয়া হয়েছে এবং তারা কেন বিনামূল্যে দেশের ২০ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মেডিটেশন সেশন করাবে সেসব বিষয়ে কোন সদুত্তর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আর প্রশিক্ষণ দিতে হলে, ২০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেসকল শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী আছেন, তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্যও নিশ্চই এই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কাছে পৌঁছাবে — সেটা কি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যে সহায়ক হবে?
দেশব্যাপী মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ১ দিনের মেডিটেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে এরা আসলে কি হাসিল করতে চাইছে, কাদের মদদে এই ধরনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হলো — এসব খতিয়ে দেখা জরুরি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
মন্তব্য করুন