এম এ সাইদ (তন্ময়): শিক্ষা নিয়ে বড় বড় ঘোষণা, নতুন কারিকুলাম, প্রযুক্তিনির্ভর ক্লাসরুম—সবই চলছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি যেন ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে: যে শিক্ষক বঞ্চিত, যে প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর এমপিওবিহীন—তাদের কাঁধে ভর করে কীভাবে মানসম্মত শিক্ষার স্বপ্ন বাস্তব হবে?
আরো পড়ুন:
যে বিষয়ে কঠিন হুঁশিয়ারি দিলেন শিক্ষমন্ত্রী
দেশের হাজারো নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজও রাষ্ট্রীয় আর্থিক কাঠামোর বাইরে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অনেক ক্ষেত্রে অর্ধবেতনে, আবার কোথাও বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন। তবুও তাদের কাছ থেকেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে ভালো ফলাফল, শৃঙ্খলাবদ্ধ শিক্ষা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি।
এটা কি বাস্তবসম্মত, নাকি আত্মপ্রবঞ্চনা?
শিক্ষকদের বেতন-বৈষম্য, অনিশ্চিত চাকরি, পদোন্নতির জটিলতা—এসব সমস্যা নতুন নয়। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সমস্যাগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে ‘সহনীয়’ ধরে নেওয়া হয়েছে। ফলে একদিকে শিক্ষক পেশার প্রতি আগ্রহ কমছে, অন্যদিকে যোগ্যরা এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
একজন শিক্ষক যখন নিজের পরিবার চালাতে হিমশিম খান, তখন তার কাছে সর্বোচ্চ পেশাগত নিষ্ঠা প্রত্যাশা করা কতটা ন্যায্য—এই প্রশ্নের সৎ উত্তর আমাদের দিতে হবে।
সরকার শিক্ষার মান উন্নয়নে নকলবিরোধী অভিযান, সিসিটিভি স্থাপন, আইন আধুনিকায়নের মতো উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—কাঠামোগত সমস্যা অমীমাংসিত রেখে কেবল নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ দিয়ে গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।
শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড যদি দুর্বল থাকে, তাহলে ওপরের সাজসজ্জা দিয়ে সেই দুর্বলতা ঢেকে রাখা যায়, কিন্তু শক্তিশালী করা যায় না।
নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত এমপিওভুক্ত করা, শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত নিরাপত্তা প্রদান—এগুলো এখন আর দাবি নয়, সময়ের জরুরি প্রয়োজন। অন্যথায়, শিক্ষার মান নিয়ে যত কথাই বলা হোক, তা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে না।