এম এ সাইদ (তন্ময়): বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত আজ এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে দক্ষ জনবল সংকট, অন্যদিকে প্রশিক্ষিত হাজারো ম্যাটস (Medical Assistant Training School) শিক্ষার্থীর বেকারত্ব—এই দ্বৈত সংকট যেন এক গভীর বৈপরীত্য তৈরি করেছে।
প্রশ্ন উঠছে—যেখানে স্বাস্থ্যখাতে কর্মীর অভাব, সেখানে কেন ম্যাটস শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো সুস্পষ্ট কর্মসংস্থান, নেই যথাযথ স্বীকৃতি, এমনকি নেই একটি নির্ভরযোগ্য রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাও?
ম্যাটস শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ৪ বছর মেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে আসে। তারা গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে—এটাই ছিল তাদের প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কোর্স শেষে তারা হয়ে পড়ছে অবহেলিত, বঞ্চিত ও কর্মহীন।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই শিক্ষার্থীদের অনেকেরই কোনো স্বীকৃত রেজিস্ট্রেশন নম্বর নেই। ফলে তারা সরকারি বা বেসরকারি কোনো খাতে কাজের সুযোগ পাচ্ছে না। একজন শিক্ষার্থী যখন বছরের পর বছর সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে একটি ডিগ্রি অর্জন করে, তখন তার ন্যূনতম প্রত্যাশা থাকে—একটি কর্মসংস্থান, একটি পরিচয়, একটি ভবিষ্যৎ। কিন্তু ম্যাটস শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সেই প্রত্যাশা আজ এক প্রহসনে পরিণত হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের কাছে প্রশ্ন—এই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কোথায়? তাদের জন্য কি কোনো পরিকল্পনা আছে? যদি না থাকে, তাহলে কেন এখনও এই কোর্স চালু রাখা হয়েছে? একটি কোর্স চালু রেখে শিক্ষার্থীদের জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করা কি এক ধরনের নৈতিক দায়বদ্ধতার লঙ্ঘন নয়?
অন্যদিকে, দেশের গ্রামাঞ্চলে এখনো প্রাথমিক চিকিৎসা সেবার অভাব প্রকট। সেখানে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের দক্ষতা কাজে লাগানো গেলে স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু পরিকল্পনার অভাব, নীতিগত জটিলতা এবং অবহেলার কারণে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
আজ প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা, যেখানে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা এবং পেশাগত মর্যাদা। শুধু তাই নয়, তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে।
সময়ের দাবি—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। অন্যথায়, হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভেঙে যাবে, আর একটি সম্ভাবনাময় খাত ধ্বংস হয়ে যাবে নীতিহীনতার বোঝায়।
শেষ কথা—ম্যাটস শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর নীরব থাকার সময় নেই। এখনই জবাব চাই, এখনই সমাধান চাই।
সম্পাদক
শিক্ষার বাজার