✍️ এম এ সাইদ (তন্ময়): আবারও বাজেট, আবারও প্রতিশ্রুতি—কিন্তু প্রশ্ন একটাই, সরকারি চাকরিজীবীদের ভাগ্যে কি সত্যিই কিছু পরিবর্তন আসছে, নাকি সবই কাগুজে আশ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকবে?
আরো পড়ুন:
ঈদে বাড়ি নয়, মানুষ ফিরছে লাশ হয়ে—রাষ্ট্র কি শুধু দর্শক?
আগামী ১১ জুন উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার বিশাল জাতীয় বাজেট। নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হওয়ায় প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো—সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় দাবি, নবম পে-স্কেল নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা নেই। ফলে আশা আর উৎকণ্ঠার দোলাচলে দিন কাটছে লাখো মানুষের।
দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্য, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে দিশেহারা সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেতন কাঠামোর জন্য আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। এমনকি পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের খবর পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
প্রশ্ন উঠছে—সরকার কি সত্যিই কর্মচারীদের প্রতি দায়বদ্ধ? নাকি তাদের ন্যায্য দাবিগুলোকে উপেক্ষা করেই এগিয়ে যাচ্ছে?
অর্থনীতি যখন চাপের মুখে, বৈশ্বিক অস্থিরতা যখন দেশের ওপর প্রভাব ফেলছে, তখন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ অবশ্যই বড়। কিন্তু সেই অজুহাতে কি দেশের প্রশাসনিক মেরুদণ্ড—সরকারি চাকরিজীবীদের বঞ্চিত রাখা যাবে?
অভ্যন্তরীণভাবে প্রশাসনে যে অসন্তোষ জমা হচ্ছে, তা অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের অস্থিরতার রূপ নিতে পারে—এটা এখন আর গোপন নয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে আন্দোলনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, সেটিও এখনো অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে। বাস্তবতা হলো—বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেরি করার সংস্কৃতি মানুষ আর বিশ্বাস করতে চায় না।
একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো দিয়ে হয় না—যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করে, সেই কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাও সমান জরুরি। অথচ তাদের জীবনযাত্রার মান দিন দিন অবনতি ঘটছে—এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
এখন সময় এসেছে স্পষ্ট সিদ্ধান্তের। আর দেরি নয়, আর আশ্বাস নয়—বাস্তব পদক্ষেপ চাই।
১১ জুনের বাজেট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়—এটি হবে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার পরীক্ষা। সরকার কি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবে, নাকি আবারও ভেঙে যাবে লাখো মানুষের আশা—এখন সেটাই দেখার বিষয়।