✍️ এম এ সাইদ (তন্ময়): ঈদ—আনন্দের, মিলনের, ভালোবাসার উৎসব। অথচ বাংলাদেশে এই ঈদই পরিণত হয়েছে মৃত্যুর এক নির্মম মিছিলে। মানুষ বাড়ি ফেরে প্রিয়জনের মুখ দেখবে বলে, কিন্তু অনেকেই আর ফিরতে পারে না—ফিরে আসে লাশ হয়ে।
আরো পড়ুন:
একাত্তরের চেতনা সবার আগে, অন্য সব পরে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রশ্ন উঠছে—এই মৃত্যু কি শুধুই দুর্ঘটনা? নাকি এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার নগ্ন প্রতিচ্ছবি?
মাত্র ১৩ দিনে তিন শতাধিক প্রাণ ঝরে যাওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, আমাদের সড়ক, রেল ও নৌপথে ভয়াবহ অরাজকতা বিরাজ করছে। প্রতিটি মৃত্যু যেন একটি করে অভিযোগ—অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং দায়হীনতার বিরুদ্ধে।
যেখানে সরকারের দায়িত্ব নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা, সেখানে তারা ব্যস্ত কাগুজে সফলতা দেখাতে। ছুটি বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হয়েছে—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে একেবারেই বেমানান। কারণ মানুষ জানে, রাস্তায় নামলেই জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হয়।
বাসে অতিরিক্ত ভাড়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতা—সব মিলিয়ে এক ভয়ংকর চক্র তৈরি হয়েছে। এই চক্র ভাঙার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। বরং অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অনিয়ম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো—প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে দায়ী ব্যক্তিরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেন এই মৃত্যুগুলোকে আরও উৎসাহ দিচ্ছে। ফলে দুর্ঘটনা কমার বদলে বাড়ছেই।
বিশেষজ্ঞরা একে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ বলছেন—আর সেটি অযৌক্তিক নয়। কারণ যখন সমস্যা জানা, সমাধান জানা, তবুও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না—তখন সেই মৃত্যু আর দুর্ঘটনা থাকে না, সেটি হয়ে ওঠে পরিকল্পিত অবহেলার ফল।
একটি দেশের উন্নয়ন কেবল সেতু, রাস্তা বা বড় বড় প্রকল্পে নয়—মানুষের জীবনের নিরাপত্তায় প্রতিফলিত হয়। অথচ আমাদের বাস্তবতা হলো, ঈদের মতো বড় উৎসবেও মানুষ নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে না।
এভাবে আর কতদিন?
সরকার যদি এখনো কঠোর না হয়, যদি পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারে, তবে প্রতি ঈদেই এই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে। তখন ইতিহাস একদিন লিখবে—এই মৃত্যু ছিল অবহেলার, উদাসীনতার, এবং ব্যর্থ নেতৃত্বের।