শি-বা ডেস্ক: শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমি যখন হেলিকপ্টার নিয়ে নকল প্রতিরোধের আন্দোলনে নামলাম তখন অনেকেই আমাকে সমালোচিত করেছিলেন।
আরো পড়ুন:
চাকরিজীবীদের হাঁসফাঁস—দ্রব্যমূল্যের আগুনে পুড়ছে সংসার, সরকার নীরব কেন?
শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন আমাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলেন, এটা ভাবনাতীত ছিলো। তখন আমি এটাকে পছন্দও করিনি। উনি আমাকে দায়িত্ব দিয়ে যখন ওমরা পালনের জন্য চলে যাচ্ছেন ঠিক আমি প্লেনে ওঠার সময় গিয়ে বললাম এই দায়িত্ব আমাকে দেবেন না। কারণ ওই সময় ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে আমার শিক্ষকরাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।
আমি নিজেকে ছোট মনে করতাম। এই দায়িত্ব আমার জন্য সম্ভব না। তখন প্রধানমন্ত্রী মৃদু হেসে বললেন, ফিরে এসে নিই। হারিজ চৌধুরীকে বললেন, হারিজ ফিরে আসলে তুমি মিলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিও।
শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন আরো বলেন, এরই মধ্যেই আমি ব্যস্ত হয়ে গেলাম, কারণ ওই বছর শিক্ষার্থীদের বই প্রিন্ট করতে পারেনি। পুস্তিকা নামের একটি সংগঠন সালমান এফ রহমানের, তারা বই দিতে পারেননি। ভাবলাম জানুয়ারিতে আমাকে বই দিতেই হবে। সে সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কোনো অফিস ছিলো না। কারণ এই মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রীই শুধু থাকতেন।
আমি এনসিটিবি চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে জানুয়ারির এক তারিখে বই বিতরণ করে আমার মন্ত্রণালয়ে এসেছি। ততক্ষণে আমার কাজ দেখে প্রধানমন্ত্রী আর চিন্তা করেননি আমাকে সরানোর। আমি যখন ওনার সঙ্গে আবার দেখা করতে গেলাম আমি ভুলেই গেলাম অকপটে আমি শিক্ষার প্রেমে পড়ে গিয়েছি।
খুব আলোচিত সেই জাম্প নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী: সেদিন সড়কে অনেক জ্যাম ছিলো। আর্মি মিউজিয়াম থেকেই আমি হাঁটা শুরু করেছিলাম। দেখলাম আমি আর পারছিনা।
কারণ প্রধানমন্ত্রী যদি আমার আগে প্রথম দিনেই আগে পৌঁছান সেটা আমার জন্য বিশাল বিড়াম্বনার। সেখান থেকেই আমি দৌড়াতে শুরু করলাম। আমি যখন পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে লেক পার করে আসলাম। যখন আমি গেটে আসলাম তখন আবার দেখলাম, এতো বেশি ক্যামেরা।
আমাকে কিছু না কিছু জিজ্ঞেস করবে। আর আমি তো দেরি করেছি সেটাও একটা পয়েন্ট। উপায়ান্তু না পেয়ে আমি জাম্পই করলাম। যখন জাম্প করলাম তখন দেখলাম চেইনটা অনেক ওপরে।
ভাবলাম কিছু হয় কিনা, আগের প্রাকটিস ছিলো পা-টা একটু বাঁকা করে পার হয়ে গেলাম। আমি ভাবতেও পারিনি এটা কেউ না কেউ ভিডিয়ো রেকর্ড করছেন। যদি আমার সাবকনসাস (অবচেতন) মাইন্ডও বলতো, তাহলে আমি কাজটি করতাম না।